শিক্ষায় ইন্টারনেট

শিক্ষায় ইন্টারনেট শিক্ষার মাধ্যমকে করেছে সহজলভ্য, নমনীয় এবং জ্ঞানভিত্তিক। এটি ভার্চুয়াল ক্লাস, ই-বুক, অনলাইন কোর্স (MOOCs) এবং গবেষণার অবারিত সুযোগ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেকোনো স্থান থেকে বিশ্বমানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে। ইন্টারনেট শিক্ষার খরচ কমিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করছে এবং যুগোপযোগী দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে ই-লার্নিং বিষয়ে আগে আলোচনা করা হয়েছে। রেডিও, টেলিভিশন, ভিডিও, ইন্টারনেটসহ নানা মাধ্যম ব্যবহার করে শিক্ষা দেওয়া যায়। বর্তমানে ইন্টারনেট শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে।
শিক্ষায় ইন্টারনেট



স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও ল্যাপটপের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে সহজেই শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব। তবে সবার জন্য সমান ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ প্রয়োজন। বর্তমানে শিক্ষাবিষয়ক বিপুল কনটেন্ট ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। কোনো বিষয়ে না বুঝলে শিক্ষার্থী সহজেই সার্চ করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ও শিক্ষামূলক ওয়েবসাইট এতে সহায়তা করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব ব্যবহারের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রয়োজন।

ইন্টারনেট ও আমার পাঠ্য বিষয়সমূহ

গণিতের অজানা সমস্যার কিছু সাইট রয়েছে যেখানে গণিতের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানের পরীক্ষানিরীক্ষা হাতে-কলমে দেখার জন্যও সাইট রয়েছে। উপকারী মানুষদের নানা বিষয়ে গ্রুপ তৈরি করে রেখেছেন, তাদের কাছে কোনো প্রশ্ন দিলে তারা উত্তর দিতে পারেন। বাংলা শিক্ষা দেওয়ার জন্যও ইন্টারনেটে অনেক চমৎকার কিছু সাইট রয়েছে।

ইন্টারনেটে শিক্ষার একটি বিশাল জগৎ এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। যখন আমরা সেটি আবিষ্কার করতে শুরু করব তখন সম্পূর্ণ নতুন একটি জগৎ আমাদের সামনে হাজির হবে।

একজন শিক্ষক আসলে একটি আলোর শিখার মতো। তিনি অন্ধকারে আলো জ্বেলে দেন, সেই আলোতে চারদিক আলোকিত হয়। শিক্ষার্থীরা সেই আলোতে সব কিছু দেখতে পায় এবং নিজের প্রয়োজন কিংবা ইচ্ছা অনুযায়ী শিখে নিতে পারে। অন্যভাবে বলা যায় পৃথিবীর সবচেয়ে শিক্ষকতাও আসলে কাউকে কিছু শেখাতে পারেন না— তারা শুধু সাহায্য করেন, শিক্ষার্থীদের নিজেকে সব কিছু শিখতে হয়।

শিক্ষার সাথে ইন্টারনেট শব্দটি জুড়ে দেওয়ার একটি ব্যাপার মনে করিয়ে দিতে হবে। কেউ যেন মনে না করে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ কিংবা ইন্টারনেটে খুব ভালো Content থাকলেই রাতারাতি ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার খুব ভালো হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে ছাত্রছাত্রীদের এই সুযোগটি দিয়ে নতুন একটি জগৎ উন্মোচন করে দেওয়া হচ্ছে মাত্র, সেই জগৎ থেকে কতটুকু গ্রহণ করবে সেটি পুরোপুরি একজন শিক্ষার্থীর ব্যাপার। তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছ তোমাদের পরিচিত কোনো ছেলে বা ছাত্রী কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে শুধু কম্পিউটার গেম খেলে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ সাইটে সময় নষ্ট করে। আবার সেই সুযোগ গ্রহণ করে অন্য কেউ কম্পিউটার প্রোগ্রাম শিখছে।

তোমরা জানো ইন্টারনেটে তোমাদের সকল পাঠ্যবই পাওয়া যায়। বছরের শুরুতে তোমাদের হাতে পাঠ্যবইগুলো পৌঁছে যায়। কোনো কারণে সেই বই যদি কেউ হারিয়ে ফেলে, কিংবা নষ্ট হয়ে যায়, তোমরা কিছু সময় ব্যয় করে ইন্টারনেট থেকে বই ডাউনলোড করে নিতে পারবে। তোমরা শুনে খুশি হবে বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে আগ্রহী মানুষরা মিলে এই বইগুলোর সফট কপি তৈরি করে সেগুলোকে কপি দিয়ে বইগুলো সহজলভ্য করে রেখেছেন। শুধু ছাত্রছাত্রীরাই এই বইগুলো থেকে উপকৃত হতে পারে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড থেকে তোমাদের জন্য সবগুলো বই প্রকাশ করা হয় এবং বিনামূল্যে তোমাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার বাইরেও তোমাদের লেখাপড়ার কাজে লাগতে পারে এমন অনেক বই রয়েছে। (এখানে কিছু মোটেও গাইড বইয়ের কথা বলা হচ্ছে না— সেগুলো কখনো কাউকে শিখতে সাহায্য করে না)। যারা বই লেখেন তাদের অনেকেই এ বইগুলো তোমাদের ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেটে দিয়ে দেন। বাজার থেকে টাকা দিয়ে বই না কিনে থেকেও এ বইগুলো ইন্টারনেট থেকে সরাসরি নামিয়ে নিতে পারো। পৃথিবীর অনেক লেখকই আজকাল তাদের বইগুলো ইন্টারনেটে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছেন। 

ই-লার্নিং কী?
ইন্টারনেট বা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণের পদ্ধতিকে ই-লার্নিং বলে।
ব্যান্ডউইথ বলতে কী বোঝায়?
ইন্টারনেট ডেটা আদান-প্রদানের গতি বা ক্ষমতাকে ব্যান্ডউইথ বলে।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url