তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির আজকের বিকাশের পেছনে রয়েছে অনেক বিজ্ঞানী, ভিশনারি, প্রকৌশলী এবং নির্মাতাদের অবদান। তার এবং তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা, কম্পিউটারের গণনা ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাইক্রোইলেকট্রনিক্সের বিকাশ বর্তমানে আইসিটিকে মুঠোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে বিশ্বের কয়েকজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার বিজ্ঞানের জনক হিসেবে পরিচিত চার্লস ব্যাবেজ আধুনিক কম্পিউটারের ধারণা দেন। অ্যালান টিউরিং কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি স্থাপন করেন। ইন্টারনেটের বিকাশে ভিন্ট সার্ফ ও রবার্ট কান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। টিম বার্নার্স-লি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব উদ্ভাবন করে তথ্য আদান-প্রদানকে সহজ করেন। এছাড়া বিল গেটস ও স্টিভ জবস ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও সফটওয়্যারকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তারে অবদান রাখেন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব


আধুনিক কম্পিউটারের বিকাশ বা প্রচলন শুরু হয় চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage ) [১৭৯১-১৮৭১] নামে একজন ইংরেজ প্রকৌশলী গণিতবিদের হাতে। অনেকে তাঁকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলে থাকেন। তিনি তৈরি করেন ডিফারেন্স ইঞ্জিন। ১৯৯১ সালে লন্ডনের বিজ্ঞান জাদুঘরে চার্লস ব্যাবেজের বর্ণনা অনুসারে একটি ইঞ্জিন তৈরি করা হয়। দেখা যায় যে, সেটি সঠিকভাবেই কাজ করছে এবং পরবর্তীতে তিনি এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন নামে একটি গণনা যন্ত্রের পরিকল্পনা করেন

চার্লস ব্যাবেজ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে চার্লস ব্যাবেজ (কম্পিউটারের জনক), অ্যাডা লাভলেস (প্রথম প্রোগ্রামার), টিম বার্নার্স-লি (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব), বিল গেটস (মাইক্রোসফট), স্টিভ জবস (অ্যাপল) এবং স্থানীয়ভাবে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনাইদ আহমেদ পলকের মতো ব্যক্তিত্বদের অবদান অনস্বীকার্য, যাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকের ডিজিটাল বিশ্ব গড়ে উঠেছে।  গণনার কাজটি কীভাবে আরো কার্যকর করা যায় সেটি নিয়ে ভেবেছিলেন কবি লর্ড বায়রনের কন্যা অ্যাডা লাভলেস (Ada Lovelace) (১৮১৫-১৮৫২) মায়ের কারণে অ্যাডা ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান গণিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৮৩৩ সালে চার্লস ব্যাবেজের সঙ্গে তার পরিচয় হলে তিনি ব্যাবেজের এনালিটিক্যাল ইঞ্জিনকে কাজে লাগানোর জন্যপ্রোগ্রামিং-এর ধারণা সামনে নিয়ে আসেন কারণে অ্যাডা লাভলেসকে প্রোগ্রামিং ধারণার প্রবর্তক হিসেবে সম্মানিত করা হয়। ১৮৪২ সালে ব্যাবেজ তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর ইঞ্জিন সম্পর্কে বক্তব্য দেন। সে সময় অ্যাডা ব্যাবেজের সহায়তা নিয়ে পুরো বক্তব্যের সঙ্গে ইঞ্জিনের কাজের ধারাটি বর্ণনা করেন। কাজের ধারা বর্ণনা করার সময় তিনি এটিকে ধাপ অনুসারে ক্রমাঙ্কিত করেন। অ্যাডার মৃত্যুর ১০০ বছর পর ১৯৫৩ সালে সেই নোট আবারো প্রকাশিত হলে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, অ্যাডা লাভলেসই অ্যালগরিদম প্রোগ্রামিংয়ের ধারণাটা আসলে প্রকাশ করেছিলেন।

কাজের ক্ষেত্রে আইসিটির বর্তমান ব্যবহার?

ব্যবসায়িক জগতে, ICT উৎপাদনশীলতা এবং দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা (CRM) এর জন্য সফ্টওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার কার্যক্রমকে সহজতর করেছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে বর্তমান উৎকর্ষের পেছনে অনেক বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং উদ্যোক্তার অবদান রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি স্মরণীয়,কোনো  কোনো কার্যক্রম ৩৬৫ দিনের ২৪ ঘণ্টা করা সম্ভব যেমন- ATM সেবা, Mobile ব্যাংকিং, তথ্য সেবা ইত্যাদি। ফলে, নাগরিকরা নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে সেবা গ্রহণ করতে পারে
অন্যদিকে -গভর্ন্যান্স চালুর ফলে সরকারি দপ্তরসমূহের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে, কর্মীদের দক্ষতাও বেড়েছে। ফলে দ্রুত সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে।

এ ছাড়াও জেমস গোসলিং (জাভা প্রোগ্রামিং ভাষার জনক), রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন (ইমেলের জনক) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশে অবদান রাখা অসংখ্য স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের নাম উল্লেখযোগ্য। আরও বিস্তারিত জানতে এবং সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলো দেখতে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ-এর ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।বাংলাদেশে -গভর্ন্যান্স চালু হয়েছে বেশ কয়েক বছর হয়েছে। এখনো অনেক ক্ষেত্রে -গভর্ন্যান্স চালু হওয়ার বাকি রয়েছে। সকল ক্ষেত্রে -গভর্ন্যান্স চালু হলে সুশাসনের পথে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url