কম্পিউটার ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা

কম্পিউটার ও ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা হলো ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, হ্যাকিং এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি থেকে সিস্টেম ও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা [১, ১০]। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, অ্যান্টিভাইরাস ও ফায়ারওয়াল সচল রাখা এবং সন্দেহজনক লিঙ্ক বা ইমেইল এড়িয়ে চলার মাধ্যমে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব  পরিবারের সবাই বাড়ির বাইরে বেড়াতে গেলে সাধারণত আমরা বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে যাই। কেন? বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, তাই না। এখন একটু চিন্তা কর, তালা জিনিসটা আসলে কী? যে কেউ কোনো চাবি দিয়ে তোমার বাড়ির তালাটি খুলতে পারে না। কারণ পৃথিবীর প্রত্যেকটি তালার জন্য ভিন্ন ভিন্ন চাবি রয়েছে। এক তালার চাবি দিয়ে অন্য একটি তালা খোলা যায় না। এভাবে আমরা তালা দিয়ে আমাদের বাড়িসহ অন্যান্য জিনিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। এখন আবার নম্বর দেওয়া এক ধরনের তালা দেখা যায়, যেখানে নম্বর মিলিয়ে তালাটি খুলতে হয়। এক্ষেত্রে নম্বরটি চাবির কাজ করে। কিন্তু ডিজিটাল প্রযুক্তির এ যুগে আরো অনেক কিছুর নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হয়। তোমরা নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছো কীসের কথা বলছি।
 
কম্পিউটার ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা




ঠিক ধরেছো, আমরা আমাদের তথ্য ও উপাত্তের নিরাপত্তার কথা বলছি। আইসিটি যুগে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, উপাত্ত ও সফটওয়্যার নিরাপত্তায় এক ধরনের তালা দিতে হয়। এ তালার নাম পাসওয়ার্ড। তোমরা অনেকেই নিশ্চয়ই ইন্টারনেটে পাসওয়ার্ড তৈরি ও ব্যবহার করে ফেলেছো। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সর্বত্র। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এর প্রসার যত বাড়ছে নিরাপত্তার প্রতি তত গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের ব্যক্তিগত সকল তথ্য যেমন ব্যাংক একাউন্ট, আয়কর হিসাব, চাকরির বিভিন্ন তথ্য ইত্যাদি ছাড়াও নানা তথ্য-উপাত্ত এখন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসছে। এছাড়াও আমাদের আইসিটি যন্ত্রপাতি যেমন- কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কিংবা মোবাইল ফোনগুলো সফটওয়্যার দ্বারা পরিচালিত হয়। আমরা যখন ইন্টারনেট ব্যবহার করি তখন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের কম্পিউটার বা আইসিটি যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ করতে পারি। তেমনি অন্য কেউ আমাদের যন্ত্রের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। এর মাধ্যমে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয় তথ্য অন্যের কাছে চলে যেতে পারে কিংবা কেউ আমাদের যন্ত্রের সফটওয়্যারের ক্ষতি করতে পারে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে আমাদের নিরাপত্তা প্রয়োজন। এসব তথ্য ও আমাদের যন্ত্রের সফটওয়্যারসমূহ রক্ষা করতে পাসওয়ার্ডের কোনো বিকল্প নেই। পাসওয়ার্ড দেওয়া থাকলে যে কেউ ইচ্ছা করলেই আমাদের তথ্য নিতে পারবে না বা ক্ষতি করতে পারবে না। তবে এখানে একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যদি কেউ বুদ্ধি খাটিয়ে আমরা যে পাসওয়ার্ড দিয়েছি তা ধরে ফেলতে পারে তাহলে সে আমাদের সকল তথ্য নিয়ে নিতে পারবে। অনেকটা চাবি বানিয়ে তালা খুলে ফেলার মতো। তাই পাসওয়ার্ড তৈরি করতে আমাদের অনেক দক্ষ হতে হবে। অন্য কেউ ধারণা করতে পারে এমন সহজ পাসওয়ার্ড যেন তৈরি করা না যায় এবং নিজেই ভুলে যাই এমন পাসওয়ার্ড তৈরি করা যাবে না।
 
কম্পিউটার ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা বেশিরভাগ মানুষ 123456 বা 654321 বা abcdef এ ধরনের পাসওয়ার্ড তৈরি করে। ফলে পাসওয়ার্ড জেনে যাওয়া বা ধরে ফেলা সহজ হয়। যদিও অনেক ব্যবহারকারী অন্য বা Unique পাসওয়ার্ড তৈরি করাকে ঝামেলার কাজ মনে করে। তথ্য-উপাত্তের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে Unique বা মৌলিক পাসওয়ার্ড তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 
কম্পিউটার ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ হলো অননুমোদিত ব্যক্তি বা ম্যালওয়্যার থেকে তথ্য ও হার্ডওয়্যারকে সুরক্ষিত রাখা। আপনার ডিভাইস ও ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি
 
  1.  দুর্বল পাসওয়ার্ডের কারণে ভাইরাস সহজেই আক্রমণ করতে পারে।
  2. হ্যাকারদের সহজেই হ্যাক করার সুযোগ করে দিতে পারে। এতে তোমার ব্যাংকে রাখা টাকা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।
  3. তোমার সহজ পাসওয়ার্ডের কারণে আইসিটি যন্ত্রে রক্ষিত তথ্য নষ্ট করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
 

কীভাবে মৌলিক পাসওয়ার্ড তৈরি করা যায়?

এটি একটি সৃজনশীল কাজ। তোমার সৃজনশীলতাই তোমার তথ্য বা সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চললে কাজটি করতে আমাদের অনেক সুবিধা হবে।
 

Unique পাসওয়ার্ড তৈরির সময় আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে:

নিজের বা পরিবারের কারো নাম বা ব্যক্তিগত কোনো তথ্য সরাসরি ব্যবহার না করা। যদিও পাসওয়ার্ডটি মনে রাখার ক্ষেত্রে এটি আমাদের সাহায্য করে থাকে,
 সংখ্যা, চিহ্ন ও শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছোট হাতের অক্ষর ও বড় হাতের অক্ষর মিশিয়ে দেওয়া ভালো হয়। এতে পাসওয়ার্ড সম্পর্কে অন্যের ধারণা করা অনেক কঠিন হয়ে যাবে;
 পাসওয়ার্ডটি যেন অবশ্যই একটি বড় আকারের হয়;
 পাসওয়ার্ড মনে রাখার জন্য আইসিটি যন্ত্র বা ডায়েরি বা অন্য কোথাও পাসওয়ার্ড বা এর অংশবিশেষ লিখে না রাখা;
 পাসওয়ার্ড মনে রাখার জন্য নিজের পছন্দের একটি সংকেত ব্যবহার করা। এটি হতে পারে প্রিয় কবিতা, গান, লেখক, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বা কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা।
 
এ কৌশলগুলোর সাথে যদি সৃজনশীল যোগ হয় তবে পাসওয়ার্ডটি হয়ে উঠতে পারে Unique পাসওয়ার্ড। আমাদের পাসওয়ার্ডগুলো হতে পারে এমন—

 MoriTeChaiNa_AmiSunDarVhubanE (প্রাণ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
 AmAr_AchE_watER (হুমায়ুন আহমেদ)
2BornoT2B_ThatIsThe? (To be or not to be, that is the question- From Shakespeare)
 4Score&7yrsAGO (Four score and seven years ago- From the Gettysburg Address)
 
তবে পাসওয়ার্ড অবশ্যই মনে রাখার মত হওয়া উচিত। প্রায় পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা একটি জরুরি কাজ। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের তথ্য ও সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করতে সক্ষম হব।

 ভবিষ্যৎ নিরাপদ থাক

 
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল, কম্পিউটারের ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি ইন্টারনেট বা অনলাইনের ব্যবহারও ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url